রক্তে শর্করার একক কীভাবে বদলায়?
· 2 মিনিট

একক লেখা নেই এমন রক্তে শর্করার একটি সংখ্যা অসম্পূর্ণ খবর, কারণ দুটি মাপকাঠির মধ্যেকার ফারাক কয়েক গুণ বড়। রক্তে শর্করার দুটি লেখা একটি স্থির গুণক দিয়ে একে অপরে বদলানো হয়। HbA1c-র দুটি মাপকাঠি অবশ্য গুণক দিয়ে নয়, প্রকাশিত একটি সম্পর্ক দিয়ে। কোনটি ছাপা হবে তা দেশের স্তরে ঠিক হয়।
রক্তে শর্করা মাপা একটি যন্ত্রও, গবেষণাগারের ব্যবহার করা পদ্ধতিও একটিমাত্র জিনিস মাপে: রক্তের গ্লুকোজের ঘনত্ব। এই ঘনত্বটি কাগজে লেখার দুটি পথ আছে। একটি ভরকে আয়তন দিয়ে ভাগ করে আর ফলটি ডেসিলিটার প্রতি মিলিগ্রাম হিসেবে দেয়। অন্যটি পদার্থের পরিমাণ গোনে আর লিটার প্রতি মিলিমোল হিসেবে লেখে। দুটি পথই একই ঘনত্ব বর্ণনা করে।
ভাগ হয়ে যাওয়ার কারণ ঐতিহাসিক। দেশগুলোর একটি অংশ ভরভিত্তিক লেখা চালিয়ে গেছে; বাকিরা আন্তর্জাতিক একক ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় ফলটি পদার্থের পরিমাণ হিসেবে ছাপতে শুরু করেছে। মাঝের রূপান্তরটি স্থির, কারণ গ্লুকোজ অণুর ওজন যে দেশেই মাপা হোক এক। ভরভিত্তিক সংখ্যাটি 18 দিয়ে ভাগ করলে পদার্থের পরিমাণের মাপকাঠিতে যাওয়া যায়, একই সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে ফিরে আসা যায়। এই কাজটি দেশ অনুযায়ী সরে না, যন্ত্র অনুযায়ী ঠিক করা হয় না, বছরের পর বছরে নতুনও করা হয় না।
কাগজে HbA1c, A1c বা শর্করা-বাঁধা হিমোগ্লোবিন নামে থাকা সারিতে ভাগ হয়ে যাওয়া আরও স্পষ্ট। একটি মাপকাঠি ফলটি শতাংশে দেয় আর বড় ক্লিনিক গবেষণার ব্যবহার করা পুরোনো লেখার সঙ্গে বাঁধা। অন্য মাপকাঠি হিমোগ্লোবিনের কতটা শর্করা বেঁধেছে তা সরাসরি গোনে, ফলটি মোল প্রতি মিলিমোল হিসেবে লেখে। সংখ্যার মাপের স্তর এভাবে পুরোপুরি সরে যায়। এখানকার রূপান্তরটি একটিমাত্র গুণ হিসেবে দাঁড়ায় না: ঢাল আর শুরুর বিন্দু আছে এমন, আন্তর্জাতিক ঐকমত্যে প্রকাশিত আর নিয়মিত পরখ করা একটি সম্পর্ক। ফলটি ছাপা গবেষণাগারও স্বাস্থ্য দলও একই ফল অন্য মাপকাঠিতে বলতে পারে, অর্থাৎ পাঠকের হাত থেকে ফসকে যাওয়া কোনো খবর নেই।
| মাপ | একটি মাপকাঠি | অন্য মাপকাঠি | মাঝের সম্পর্ক |
|---|---|---|---|
| রক্তে শর্করা | ডেসিলিটার প্রতি মিলিগ্রাম (mg/dL) | লিটার প্রতি মিলিমোল (mmol/L) | স্থির একটি গুণক দিয়ে বদলানো হয় |
| HbA1c | শতাংশ (NGSP/DCCT মাপকাঠি) | মোল প্রতি মিলিমোল (IFCC মাপকাঠি) | প্রকাশিত একটি সম্পর্ক দিয়ে বদলানো হয় |
কোন মাপকাঠি ছাপা হবে তা দেশের স্তরে ঠিক হয়। কোথাও দুটি লেখাই কাগজে একসঙ্গে ছাপা হয়, কোথাও কেবল একটি। বিদেশি একটি প্রতিবেদনে একটিমাত্র মাপকাঠি দেখা তাই স্বাভাবিক আর সেই একটি মাপকাঠি পাঠকের চেনা মাপকাঠি না-ও হতে পারে।
একটি কাগজ কোন মাপকাঠি ব্যবহার করছে তা বেশির ভাগ সময় কাগজেই লেখা থাকে। একক, ফলের ঠিক পাশে বা কলামের শিরোনামে দাঁড়ায়; ওই ছোট লেখাটি পাতার সবচেয়ে নির্ধারক খবরগুলোর একটি। বন্ধনীর ভেতরে দ্বিতীয় একটি সংখ্যা দেখা যেতে পারে। এই সংখ্যাটি হয় একই ফলের অন্য মাপকাঠির প্রতিরূপ, নয়তো গবেষণাগারের রেফারেন্স ব্যবধান, নয়তো পদ্ধতির টুকিটাকি। কোনটি তা বন্ধনীর পাশের এককের লেখাটিই বলে দেয়।
গবেষণাগারের ফলটিকে দৈনন্দিন মাপের ভাষায় নিয়ে যাওয়া আরও একটি সংখ্যা আছে: আনুমানিক গড় গ্লুকোজ। তার নিজের লেখাটি এই পাতার বাইরে দাঁড়ানো।
বিদেশে করানো একটি পরীক্ষায় ফলের ঠিক পাশের ছোট লেখাটি চারটি সংক্ষেপের একটি বয়ে বেড়ায়: mg/dL, mmol/L, শতাংশের চিহ্ন বা mmol/mol। পাতার সব মান ওই সংক্ষেপের মাপকাঠিতেই পড়া হয়।
সূত্র
- D’Orazio P, Burnett RW, Fogh-Andersen N, et al. Approved IFCC recommendation on reporting results for blood glucose (abbreviated). Clin Chem. 2005;51(9):1573-1576.
- Hanas R, John G; International HbA1c Consensus Committee. 2010 consensus statement on the worldwide standardization of the hemoglobin A1c measurement. Clin Chem. 2010;56(8):1362-1364.
- Weykamp C. HbA1c: a review of analytical and clinical aspects. Ann Lab Med. 2013;33(6):393-400.
- Sacks DB, Arnold M, Bakris GL, et al. Guidelines and recommendations for laboratory analysis in the diagnosis and management of diabetes mellitus. Clin Chem. 2011;57(6):e1-e47.