ডায়াবেটিস কী?
ডায়াবেটিস কী
5টি লেখা
ডায়াবেটিস কি আয়ু কমিয়ে দেয়?ডায়াবেটিস আয়ুর সঙ্গে কী করে, এর উত্তর একটিমাত্র সংখ্যা নয়, একটি সম্পর্ক: শনাক্তকরণ কোন বয়সে হয়েছে আর কোন মাপ লক্ষ্যসীমায় আছে। অল্প বয়সে হওয়া শনাক্তকরণ, চওড়া নজরদারির নথিতে বড় একটি ফারাক রেখে যায়। অন্য একটি নজরদারি ফারাক সরু হয়ে আসা একটি ছবিও দেখায়। · 3 মিনিটআরও পড়ুন
প্রশ্নটি একটি সংখ্যা আশা করে। নথিগুলোর দেওয়া উত্তর অবশ্য সংখ্যার চেয়ে বেশি একটি ঢাল: একই রোগ, শনাক্তকরণ কোন বয়সে হয়েছে তার সঙ্গে নজরদারিতে আলাদা একটি দাগ রেখে যায়। চল্লিশে শনাক্ত হওয়াদের নথির পাশে ষাটে শনাক্ত হওয়াদের নথি রাখলে মাঝের দূরত্ব ছোট আসে না। উত্তরের ভার তাই কিসের উপর নির্ভর করে সেই দিকেই পড়ে।
সম্পর্কটি সবচেয়ে চওড়াভাবে মাপা কাজটি একে অপরের থেকে স্বাধীন শ-খানেকের কাছাকাছি নজরদারি দল আর একটি বড় জনসংখ্যা নথিকে একটিমাত্র বিশ্লেষণে জুড়েছিল। এই নথিতে শনাক্তকরণের বয়স যত পেছনে যায়, মৃত্যুর হারের তুলনার দলের সঙ্গে ফারাক তত নিয়ম মেনে বড় হচ্ছিল। আয়ুর প্রত্যাশায় বদলালে প্রতিটি দশ বছরের আগাম শনাক্তকরণ মোটামুটি তিন থেকে চার বছরের একটি ফারাকে দাঁড়াত। নিচের সারিগুলো দুটি দলের গড় মিলিয়ে দেখছে; একটিও একজন মানুষের হিসাব নয়।
| শনাক্তকরণ হওয়ার বয়স | তুলনার দলের সঙ্গে গড় ফারাক |
|---|---|
| তিরিশের শুরু | চোদ্দো বছর পর্যন্ত |
| চল্লিশের শুরু | দশ বছরের কাছাকাছি |
| পঞ্চাশের শুরু | ছয় বছরের কাছাকাছি |
| সত্তর আর তার পরে | বছরের হিসাব করা হয়নি; মৃত্যুর হারের ফারাক এখানেই সবচেয়ে সরু |
ছকের সংখ্যাগুলো জনসংখ্যার মৃত্যুহার থেকে বের করা আর পঞ্চাশ বছর দেখা মানুষের নথির উপরে হিসাব করা; একজন মানুষের সামনের বছরগুলো তারা দেখাচ্ছে না। নথিগুলো জড়ো করা বছরগুলোও চওড়া একটি ব্যবধানে ছড়ানো; সবচেয়ে পুরোনো নজরদারির সঙ্গে সবচেয়ে নতুনটির মাঝে দশক আছে।
সময়ের প্রশ্নটি কেবল শরীরে কাটে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, ডায়াবেটিস নিয়ে বাঁচা মানুষের অর্ধেকের বেশি, গণনার বছরে এই শনাক্তকরণের জন্য কোনো ওষুধই ব্যবহার করেননি। এটি নজরদারির ফলের পাশে দাঁড়ানো দ্বিতীয় একটি মাপ: চিকিৎসার নাগাল পাওয়া নিজেই।
প্রশ্নের দ্বিতীয় অর্ধেকটি অন্য জায়গা থেকে মাপা একটি পর্যবেক্ষণমূলক নজরদারি আছে। টাইপ 2 ডায়াবেটিস নিয়ে বাঁচা মানুষদের, বয়স আর লিঙ্গ মিলিয়ে সাজানো একটি তুলনার দলের পাশে রাখা হলো আর পাঁচটি মাপ নজরে রাখা হলো: HbA1c, রক্তের চর্বি থেকে কোলেস্টেরলের সারি, প্রস্রাবের অ্যালবুমিন, ধূমপান আর রক্তচাপ। এগুলোর সবই পরীক্ষায় আর ফলের কাগজে যার প্রতিরূপ আছে এমন মাপ; শর্করা ছাড়া আর কী নজরে রাখা হয় জানতে চাওয়া “শর্করা ছাড়া আর কী দেখা হয়?” লেখাটি এই মাপগুলোর প্রতিটিতে আলাদা করে তাকায়। পাঁচটিই একসঙ্গে লক্ষ্যসীমায় মাপা দলে মৃত্যুর জন্য বাড়তি ঝুঁকি প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেল; এটি একটি তুলনার ফল, নথিগুলো একই মানুষকে দুটি অবস্থায় মাপছে না।
ছবিটি যেমন আছে তেমন রেখে দেয় যে বিশদটি সেটি এখানে। হৃদ্রোগের আক্রমণের দিকে ফারাক নিচের দিকে এসেছিল, স্ট্রোকের দিকে অর্থপূর্ণ কোনো ফারাক থাকেনি; হৃদ্যন্ত্রের অক্ষমতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি অবশ্য পাঁচটি মাপ লক্ষ্যে থাকা অবস্থাতেও তুলনার দলের উপরে দাঁড়িয়ে ছিল। হৃদ্যন্ত্রের অক্ষমতা মানে হৃৎপিণ্ডের রক্তকে যথেষ্ট জোরে শরীরে এগিয়ে দিতে না পারা; শ্বাসকষ্ট আর পায়ে জমা ফোলা হিসেবে দেখা যায়। অর্থাৎ বাড়তি ঝুঁকির পুরোটা একসঙ্গে বন্ধ হয় না; যেটুকু বন্ধ হয় সেটি মাপা একটি ফল। একই লক্ষ্যগুলোর অঙ্গের দিকে কী প্রতিরূপ আছে সেটি এর পরের প্রশ্ন। “জটিলতা কি ঠেকানো যায়?” লেখাটি এই ছবিটি পূর্ণ করে।
দুটি মাপের মধ্যেকার দূরত্বই উত্তরটি। গড় একটি জনসংখ্যার যোগফলকে একটিমাত্র সংখ্যায় নামায় আর সেই সংখ্যার ভেতরের কাউকেই বর্ণনা করে না। শনাক্তকরণের বয়স ফিরিয়ে নেওয়া যায় না এমন একটি তথ্য। পাঁচটি মাপ কোথায় দাঁড়িয়ে সেটি অবশ্য নজরদারির পুরোটা জুড়ে মাপা চলতে থাকা একটি জিনিস, আর সেই নথি এখনও জমছে।
ডায়াবেটিস কী, শরীরে কী ঘটে?ডায়াবেটিস হলো সেই ব্যবস্থার ভেঙে পড়া যা রক্তের গ্লুকোজকে কোষের ভেতরে ঢুকিয়ে জ্বালানিতে পরিণত করে। অগ্ন্যাশয় যথেষ্ট ইনসুলিন বানাতে পারে না, নয়তো শরীর বানানো ইনসুলিনকে দরকারমতো কাজে লাগাতে পারে না। গ্লুকোজ কোষে ঢোকার বদলে রক্তে জমতে থাকে। কথ্য ভাষায় এর নাম বহুমূত্র, চিকিৎসাশাস্ত্রে ডায়াবেটিস মেলিটাস। · 2 মিনিটআরও পড়ুন
রুটি, ভাত আর ফলের মতো শর্করা হজমের শেষে গ্লুকোজে বদলে যায় আর রক্তে মেশে। গ্লুকোজ কোষের জ্বালানি। কিন্তু সে নিজে থেকে কোষের দরজা খোলে না। রক্তের গ্লুকোজ বাড়লেই অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন ছাড়ে; ইনসুলিনই সেই চাবি যা ওই দরজা খোলে। ঠিক তখনই যকৃৎ নিজের গ্লুকোজ বানানো কমিয়ে দেয়। ব্যবস্থাটি চলতে থাকলে সকাল হোক বা সন্ধ্যা, সংখ্যা একটি সরু সীমার ভেতরে থাকে।
ডায়াবেটিসে এই ব্যবস্থা দুই দিক থেকে ভেঙে পড়ে। হয় অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন বানানো বিটা কোষ ধ্বংস হয় আর চাবিটি আর তৈরিই হয় না, নয়তো চাবি থাকে কিন্তু তালা আগের মতো সাড়া দেয় না। দ্বিতীয়টির নাম ইনসুলিন প্রতিরোধ। অগ্ন্যাশয় কিছুকাল বাড়তি ক্ষরণ করে ঘাটতি ঢাকে; বছরের পর বছরে এই পুষিয়ে দেওয়া আর কুলোয় না। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের সেবা মানদণ্ড এই দুই পথকে আলাদা করে বর্ণনা করে: টাইপ 1-এ অটোইমিউন ধ্বংস, টাইপ 2-এ অটোইমিউন নয় এমন ক্রমবর্ধমান ক্ষরণের ক্ষয়। যকৃৎও এই ছবিতে চুপ করে থাকে না; রক্তে গ্লুকোজ দিয়ে যেতেই থাকে।
| ধরন | শরীরে কী ঘটছে |
|---|---|
| টাইপ 1 | রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজের বিটা কোষ ধ্বংস করছে, ইনসুলিন তৈরি ফুরিয়ে যাচ্ছে। |
| টাইপ 2 | ইনসুলিন তৈরি হচ্ছে কিন্তু কোষ সাড়া দিচ্ছে না, তৈরি ক্রমে কুলোচ্ছে না। |
| গর্ভকালীন ডায়াবেটিস | গর্ভের হরমোন ইনসুলিনের কাজ কঠিন করে তোলে, প্রসবের পরেও ঝুঁকি থেকে যায়। |
| অন্যান্য ধরন | বংশগত ত্রুটি, অগ্ন্যাশয়ের রোগ আর কিছু ওষুধও এই ছবি তৈরি করে। |
- বহুমূত্র আর ডায়াবেটিস কি একই জিনিস?
- একই জিনিস; ডায়াবেটিস চিকিৎসাশাস্ত্রের নাম, বহুমূত্র তার দৈনন্দিন ভাষার প্রতিশব্দ। পুরো নাম ডায়াবেটিস মেলিটাস, অর্থাৎ মধুর মতো প্রবাহ, আর নামটি এসেছে প্রস্রাব মিষ্টি হয়ে যাওয়া থেকে।
- রক্তে শর্করা আর গ্লুকোজ কি একই?
- রক্তে যা মাপা হয় তা গ্লুকোজ; টেবিলের চিনি হলো সুক্রোজ, যা হজমে গ্লুকোজ আর ফ্রুক্টোজে ভাগ হয়। রক্তে শর্করা কথাটি রক্তের গ্লুকোজের দৈনন্দিন নাম ছাড়া আর কিছু নয়।
- চিনি খেলেই কি ডায়াবেটিস হয়?
- শুধু মিষ্টি খাওয়া এই ছবিটি শুরু করে না। টাইপ 1 ডায়াবেটিস শুরু করে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা; টাইপ 2-এ বংশ, ওজন, নিষ্ক্রিয়তা আর বয়স একসঙ্গে ভূমিকা নেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দীর্ঘদিন উঁচু থাকা গ্লুকোজ বিশেষ করে স্নায়ু আর রক্তনালির বড় ক্ষতি করে। ক্ষয়টি বেশির ভাগ সময় নিঃশব্দে এগোয়। ধরন যাই হোক, এই ঝুঁকি সবার এক। ডায়াবেটিসের নাম জানা মানে তাকে সামলানো নয়। তবু ব্যবস্থাটি না চিনে সংখ্যা পড়া কঠিন। আপনার কোন ধরন, কোন কলটি আটকেছে আর কোন মাপ আপনার জন্য অর্থবহ — এগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে বাঁধা।
ইনসুলিন কী আর কী কাজ করে?ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের বানানো একটি হরমোন, আর সে রক্তের গ্লুকোজকে কোষের ভেতরে ঢুকতে দেয়। আপনি যে রুটি খান তার শর্করায় বদলে যাওয়া অংশ রক্তে মেশে; ইনসুলিন সেই গ্লুকোজের জন্য কোষের দরজা খোলে। হরমোন কম পড়লে বা কোষ তাকে না শুনলে গ্লুকোজ রক্তে জমে। ডায়াবেটিসের বর্ণনা ঠিক এখান থেকেই শুরু। · 2 মিনিটআরও পড়ুন
ইনসুলিন একটি হরমোন। অর্থাৎ রক্তে বাহিত একটি বার্তা, আর তাকে বানায় অগ্ন্যাশয়। অগ্ন্যাশয়ের ভেতরে দ্বীপের মতো অংশ থাকে আর সেই দ্বীপগুলোর বিটা কোষ ইনসুলিন বানিয়ে থলিতে ভরে রাখে। রক্তের গ্লুকোজ বাড়লে বিটা কোষ সেটি মাপে আর থলিগুলো খালি করে। বার্তাটি ছোট: জ্বালানি এসে গেছে।
হরমোন নিজে গ্লুকোজ বয়ে নেয় না; সে কোষের গায়ের গ্রাহকে গিয়ে বসে আর ভেতরে একের পর এক চাবি ঘোরায়। পেশি আর চর্বির কোষে গ্লুকোজ বাহকগুলো কোষের পর্দায় উঠে আসে। গ্লুকোজ সেই দরজা দিয়ে ভেতরে গড়িয়ে যায়। যকৃতে দুটি কাজ একসঙ্গে হয়: জমা রাখা খোলে, নতুন গ্লুকোজ বানানো থামে। রক্তের সংখ্যা তাই নামে: গ্লুকোজ হারিয়ে যায় না, জায়গা বদলায়।
| অঙ্গ | ইনসুলিন থাকলে কী হয় |
|---|---|
| যকৃৎ | গ্লুকোজকে জমার দিকে টানে, নতুন বানায় না। |
| পেশি | গ্লুকোজ ভেতরে নেয়; শক্তিতে বদলায় বা গ্লাইকোজেন হিসেবে জমায়। |
| চর্বির কলা | চর্বি ভাঙা থামে, জমা শুরু হয়। |
ইনসুলিন কেবল খাওয়ার পরে বেরোয় না; বিটা কোষ সারা দিন অল্প অল্প ক্ষরণ করে আর রাতেও তা চলতে থাকে। তার উল্টো দিকে দাঁড়ায় আলফা কোষের হরমোন গ্লুকাগন: সে যকৃৎকে জমা খুলতে বলে, ইনসুলিন সেই জমা বন্ধ করে। দুই হরমোন একে অপরকে সামলায়; ঘুমের মধ্যে রক্তের গ্লুকোজ স্থির রাখে এই পাল্টাপাল্টি চাপই। রাতের খাবার আর সকালের নাশতার মাঝে মুখে কিছুই যায় না, তার উপর আপনি ঘুমান; তবু মস্তিষ্ক জ্বালানি চায়। সেই ফাঁকে যকৃৎ জমা থেকে সামান্য ছাড়ে, ইনসুলিন মাপটা ধরে রাখে।
ডায়াবেটিস হলো এই বার্তার সবচেয়ে চেনা দুই ভাবে ছিঁড়ে যাওয়া। টাইপ 1-এ রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বিটা কোষ শেষ করে দেয় আর বার্তা লেখার মতো কোষ থাকে না। টাইপ 2-এ বার্তা লেখা হয় কিন্তু কোষ তা ভালো করে শোনে না; অগ্ন্যাশয় ঘাটতি ঢাকতে বাড়তি ক্ষরণ করে, তারপর আর কুলোতে পারে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা এই ফারাকটি এভাবে গড়ে: হয় অগ্ন্যাশয় যথেষ্ট ইনসুলিন বানায় না, নয়তো শরীর বানানো ইনসুলিন কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে না।
- ইনসুলিন কোন অঙ্গ থেকে বেরোয়?
- অগ্ন্যাশয় থেকে; ঠিকঠাক ঠিকানা হলো অগ্ন্যাশয়ের ভেতরে ছড়ানো দ্বীপগুলোর বিটা কোষ।
- ইনসুলিন কম বেরোলে কী হয়?
- গ্লুকোজ রক্তেই থেকে যায় আর কোষ অভুক্ত থাকে; তেষ্টা, ঘন ঘন প্রস্রাব আর ক্লান্তি এই ছবির চেনা চিহ্ন।
- ইনসুলিন কি কেবল রক্তে শর্করা নিয়েই কাজ করে?
- না। সে চর্বি আর প্রোটিনের ভারসাম্যেও ঢোকে: পেশির কোষে প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে, চর্বির কলায় ভাঙন ধীর করে।
- ইনসুলিন শব্দের মানে কী?
- শব্দটির মূল লাতিন ইনসুলা, যার অর্থ দ্বীপ; হরমোন বানানো কোষগুলো অগ্ন্যাশয়ে সত্যিই দ্বীপের মতো থাকে।
ডায়াবেটিস কি পরিবার থেকে আসে?ডায়াবেটিস চোখের রঙের মতো সরাসরি বয়ে যাওয়া কোনো বৈশিষ্ট্য নয়; বংশ দিয়ে যা যায় তা রোগটি নিজে নয়, তার দিকে ঝোঁক। পরিবারে ডায়াবেটিস থাকলে ঝুঁকি সত্যিই খানিকটা বাড়ে। বাড়াটি কত বড় তা অবশ্য কোন ধরনের কথা হচ্ছে আর আত্মীয়তা কতটা কাছের, তার সঙ্গে স্পষ্টভাবে বদলায়। · 2 মিনিটআরও পড়ুন
বংশের ভাগ প্রতিটি ডায়াবেটিসের ধরনে এক নয়; টাইপ 2-এ পরিবারের ছাপ স্পষ্ট। মা, বাবা বা ভাইবোনের শনাক্তকরণ আছে এমন মানুষে ঝুঁকি, পারিবারিক ইতিহাস না থাকা মানুষের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি পাওয়া যায়। টাইপ 1-এও বংশগত ভিত আছে, তবে ছবিটি জটিল। একই ডিম থেকে আসা যমজের জিন হুবহু এক। যমজের একজনের রোগ হলে, দীর্ঘ নজরদারিতে অন্যজনেরও হওয়ার সম্ভাবনা অর্ধেক ছাড়ায়। একই জিন, আলাদা ফল।
মায়ের কাছ থেকে আসে, না বাবার? টাইপ 1-এ বাবার শনাক্তকরণ, মায়ের শনাক্তকরণের তুলনায় সন্তানের ঝুঁকি মোটামুটি দ্বিগুণে নিয়ে যায়। টাইপ 2-এ মা আর বাবা দুই দিকই একসঙ্গে গোনা হয়। সন্তানের কাছে যা যায় তা আবারও শনাক্তকরণ নয়, ভিত। এমন বাবা-মায়ের সন্তানদের বড় অংশে রোগটি কখনও দেখা দেয় না।
| পরিবারের অবস্থা | ঝুঁকিতে তার মানে |
|---|---|
| মা বা বাবার টাইপ 2 ডায়াবেটিস | সারা জীবনের ঝুঁকি দশ জনে চার জনের কাছাকাছি |
| মা আর বাবা দুজনেরই শনাক্তকরণ আছে | ঝুঁকি দশ জনে সাত জনের দিকে এগোয় |
| ভাই বা বোনের টাইপ 1 ডায়াবেটিস | সাধারণ মানুষের তুলনায় দশ গুণের বেশি; তবু ভাইবোনদের বেশির ভাগে কখনও হয় না |
| একক জিন থেকে আসা বিরল রূপ | অটোজোমাল ডমিন্যান্ট বংশগতি; প্রতিটি সন্তানের জন্য অর্ধেক অর্ধেক |
টাইপ 2-এ কাজটি একটিমাত্র জিনের দিকে তাকায় না। একে অপরের থেকে স্বাধীন বহু জিন অঞ্চল পাওয়া গেছে আর প্রতিটি ঝুঁকিকে সামান্য পরিমাণে বদলায়। আজ পর্যন্ত পাওয়া ঝুঁকির রূপভেদগুলো সব মিলিয়েও পরিবারে দেখা বংশগততার কেবল দশ ভাগের এক ভাগ ব্যাখ্যা করে। পরিবারে জমে ওঠা তাই একটি ত্রুটিপূর্ণ জিনের দাগ নয়, অসংখ্য ছোট প্রভাবের যোগফল। একক জিন থেকে আসা রূপগুলো আলাদা একটি শিরোনাম; প্রজন্মের পর প্রজন্ম অল্প বয়সে শনাক্ত হওয়া, বাড়তি ওজন আর অটোঅ্যান্টিবডি না থাকা পরিবারে সেগুলো মনে আসে। এই বিরল ছবিতে বংশগতি সত্যিই চোখের রঙের মতো করে কাজ করে।
ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে রোগ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে অসংক্রামক রোগের মধ্যে গোনে। একই রান্নাঘর, একই থালা, একই রুটি ভাগ করা রোগটি বয়ে আনে না। পরিবারে ভাগ করা জিনিসও কেবল জিন নয়। সকালের নাশতার নিয়ম, সন্ধ্যার নিষ্ক্রিয়তা, হাঁটার অভ্যাস, ঘুমের সময়ও প্রজন্মের মধ্যে বাহিত হয়। টাইপ 2-এ ইনসুলিন প্রতিরোধ পরিবারে জড়ো হওয়ার একটি অংশ এই যৌথ বুননের ভেতর থেকেই আসে। গর্ভকালে দেখা দেওয়া ছবির, অর্থাৎ গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্ক দেখায় “গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কী?” শিরোনামের লেখাটি।
জন্ম থেকেই কি? জিন জন্মের সময়েই জায়গামতো থাকে, রোগটি অবশ্য পরে আসে। ঝোঁক নিয়ে জন্মানো একটি শিশুতে শনাক্তকরণ আসে বছর, এমনকি দশক পরে। অটোইমিউন প্রক্রিয়াও হঠাৎ শুরু হয় না; নিঃশব্দে এগোয়, তারপর দৃশ্যমান হয়। পারিবারিক ইতিহাসের বাস্তব মানেও এখানেই: নির্দেশিকাগুলো প্রথম শ্রেণির আত্মীয়ে ডায়াবেটিস থাকাকে, যাচাইয়ের সিদ্ধান্তে ওজন বহনকারী উপাদানগুলোর মধ্যে গোনে।
পারিবারিক ইতিহাস বদলানো যায় না এমন একটি তথ্য, কিন্তু ঝুঁকির মানচিত্রের পুরোটা নয়। উল্টোটিও সত্যি: টাইপ 1 শনাক্ত হওয়াদের দশ জনের নয় জনের পরিবারে এই রোগ কখনও ছিল না।
ডায়াবেটিস কি সেরে যায়, না চিরস্থায়ী?শর্করার মান ওষুধ ছাড়াই লক্ষ্যসীমায় ফিরে আসা টাইপ 2 ডায়াবেটিসে সম্ভব; নির্দেশিকাগুলো এই অবস্থাকে বলে রেমিশন। টাইপ 1 ডায়াবেটিস অবশ্য সারা জীবন ইনসুলিন চায়। চিরস্থায়ী কোনটি, আর বদলায় কোনটি? একই প্রশ্নে দুই ধরনে দুটি আলাদা উত্তর বেরোয়, ফারাকটি ঠিক এখান থেকেই শুরু। · 2 মিনিটআরও পড়ুন
টাইপ 1 ডায়াবেটিসে ইনসুলিন বানানো বিটা কোষ রোগপ্রতিরোধের জবাবে চিরতরে কমে যায়; হারানো কোষ আর ফেরে না। শনাক্তকরণের পরের মাসগুলোতে লাগা ইনসুলিন কিছুকাল কমে আসে; মাস দিয়ে মাপা এই ফাঁকটিকে বলে মধুচন্দ্রিমা পর্ব। এই ফাঁকটি বন্ধ হলে বেড়ে যাওয়া ইনসুলিনের চাহিদা, যত্ন নেওয়া মানুষের কাছে ছবিটি খারাপ হচ্ছে বলে মনে হয়; আসলে বাড়াটি কোষ হারানোর জানা গতিপথ থেকেই আসে। টাইপ 2-এ ছবিটি বেশি নমনীয়: ইনসুলিন প্রতিরোধ কমে এলে শর্করার মান ওষুধ ছাড়াই লক্ষ্যসীমায় থাকে।
আন্তর্জাতিক ঐকমত্য প্রতিবেদনের মাপকাঠিটি এই: ডায়াবেটিসের ওষুধ ছাড়ার অন্তত তিন মাস পরে দেখা HbA1c মান শনাক্তকরণের সীমার নিচে থাকলে ছবিটিকে রেমিশন ধরা হয়। শব্দটি যত্ন করে বাছা। রেমিশন এমন একটি বর্ণনা যা ছবিটি ফিরে আসার কথা গোড়াতেই মেনে নেয়; পুরোপুরি সেরে ওঠা বোঝায় না। প্রি-ডায়াবেটিসের জন্য এই শব্দটি ব্যবহার হয় না; সেখানকার ফেরাটি আলাদা একটি লেখা দেখায়।
| অবস্থা | যা চিরস্থায়ী | যা বদলাতে পারে |
|---|---|---|
| টাইপ 1 ডায়াবেটিস | ইনসুলিনের দরকার সারা জীবন থাকে | দিনের ইনসুলিনের মাত্রা; বেড়ে ওঠা, চলাফেরা আর অসুখের সময়ে আবার ঠিক করা হয় |
| টাইপ 2 ডায়াবেটিস | ঝোঁক আর শনাক্তকরণের ইতিহাস থেকে যায় | শর্করার মান ওষুধ ছাড়াই লক্ষ্যসীমায় ফিরতে পারে |
টাইপ 2-এ রেমিশন টেনে নিয়ে যায় টিকে থাকা ওজন কমা। ঘন পুষ্টি সহায়তা দিয়ে চালানো একটি এলোমেলোকৃত কাজে, দুই বছরের শেষে অংশগ্রহণকারীদের তিন ভাগের এক ভাগেরও বেশি রেমিশনে ছিলেন। যাঁরা ওজন আবার ফিরে পাননি, তাঁদের রেমিশন বেশিবার টিকেছে।
একই অংশগ্রহণকারীদের দীর্ঘ নজরদারি অন্য কিছু দেখাল। পঞ্চম বছরে পৌঁছে রেমিশনে থাকা মানুষের অনুপাত স্পষ্টভাবে নেমে গিয়েছিল। সকালের নাশতা থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত চলা নিয়ম আলগা হতেই ওজন ফিরে এল, শর্করাও তার সঙ্গে ফিরল। নথিতে সামনে আসা উপাদানগুলো এই:
- শনাক্তকরণের পর অল্প সময় পেরোনো
- স্পষ্ট আর বছরের পর বছর ধরে রাখা ওজন কমা
- বিটা কোষের একটি অংশের তখনও ইনসুলিন ছাড়া
বছরে বছরে পরীক্ষার কারণ এখানেই। রেমিশনের সময়টিও নজরে রাখা একটি সময়: চোখের পর্দায় রেটিনোপ্যাথি যাচাই, বৃক্কে নেফ্রোপ্যাথির নজরদারি, রক্তচাপ আর রক্তের চর্বি পঞ্জিকায় থেকে যায়। রান্নাঘরের নিয়ম ভালো চলার সময়েও এই সাক্ষাৎকারগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। লাভটি বাস্তব। লক্ষ্যসীমায় কাটা বছরগুলো এমন বছর, যেখানে বৃক্ক আর হৃদ্যন্ত্র-রক্তনালির সমস্যা কম দেখা যায়।
- ওজন কমালে কি ডায়াবেটিস পুরোপুরি সেরে যায়?
- নথিতে যা দেখা যায় তা পুরোপুরি সেরে ওঠা নয়, রেমিশন। ওজন কমা ধরে রাখা বছরগুলোতে শর্করা লক্ষ্যসীমায় থাকে; ওজন ফিরে এলে মানগুলোও উপরে ওঠে।
- ওষুধ ছাড়া কি সেরে যায়?
- রেমিশনের সংজ্ঞার ভেতরেই ওষুধ ছেড়ে দেওয়া আছে; ওষুধ ছাড়া চলা এই সংজ্ঞার অংশ। এই ছেড়ে দেওয়া মাপ আর নজরদারি দিয়ে চলা একটি প্রক্রিয়া।
নথিগুলোর দেখানো ছবিটি সংক্ষেপে এই: ডায়াবেটিসের শনাক্তকরণ নথিতে থেকে যায়, শর্করার মান অবশ্য বদলানো যায় এমন একটি শিরোনাম। রেমিশন হলো রোগটি চুপ করে থাকা একটি সময়ের নাম।
এই লেখা কেবল জানানোর জন্য; এটি রোগ শনাক্তকরণও নয়, চিকিৎসা বা মাত্রার নির্দেশও নয়। আপনার চিকিৎসার সিদ্ধান্ত সব সময় সেটিই যা আপনি আপনার ডাক্তারের সঙ্গে মিলে নেন।