ডায়াবেটিস কী?
ডায়াবেটিসের ধরন
6টি লেখা
টাইপ 1 আর টাইপ 2 ডায়াবেটিসের ফারাক কী?টাইপ 1 ডায়াবেটিসে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ইনসুলিন বানানো কোষগুলো শেষ করে দেয়; টাইপ 2-এ ইনসুলিন থাকে কিন্তু নিজের কাজ করতে পারে না। একটি তৈরির ক্ষতি, অন্যটি ব্যবহারের সমস্যা। এই ফারাকই বুঝিয়ে দেয় চিকিৎসা, গতি আর বয়স কেন আলাদা দেখায়। সংখ্যা দুটোতেই বাড়ে, গল্প আলাদা। · 2 মিনিটআরও পড়ুন
ইনসুলিন হলো সেই চাবি যা রক্তের গ্লুকোজকে কোষের ভেতরে ঢোকায়। সেই চাবি ছাড়া শর্করা রক্তে জমে। টাইপ 1 ডায়াবেটিসে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এই চাবি বানানো অগ্ন্যাশয়ের কোষগুলোকে বাইরের শত্রু ভেবে শেষ করে দেয়। তৈরি বন্ধ হয় আর বাইরে থেকে ইনসুলিন দেওয়া প্রথম দিন থেকেই বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে। টাইপ 2 ডায়াবেটিসে চাবি তৈরি হয়, কিন্তু তালায় মরচে পড়েছে: পেশি আর যকৃতের কোষ ইনসুলিনে আগের মতো সাড়া দেয় না। অগ্ন্যাশয় বছরের পর বছর বাড়তি ইনসুলিন ছেড়ে ঘাটতি ঢাকে, তারপর এই গতি আর ধরে রাখতে পারে না। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের সেবা মানদণ্ড প্রথমটিকে রোগপ্রতিরোধ থেকে আসা কোষ ধ্বংস, দ্বিতীয়টিকে রোগপ্রতিরোধ-বহির্ভূত আর ক্রমবর্ধমান ক্ষরণের ঘাটতি বলে বর্ণনা করে।
| ফারাক | টাইপ 1 | টাইপ 2 |
|---|---|---|
| মূল কারণ | রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ইনসুলিন বানানো কোষ শেষ করে দেয়। | কোষ ইনসুলিনে বাধা দেয়, অগ্ন্যাশয় ক্রমে কুলোতে পারে না। |
| শুরু | উপসর্গ দিন বা সপ্তাহের মধ্যে ফেটে পড়ে। | উপসর্গ বছরের পর বছর নিঃশব্দে এগোয়। |
| ইনসুলিন | প্রথম দিন থেকেই বাইরে থেকে দেওয়া বাধ্যতামূলক। | সাধারণত বছর কয়েক পরে প্রশ্নটি ওঠে। |
কিন্তু এত পরিষ্কার দেখানো ফারাকটি গুলিয়ে যায় কেন? দীর্ঘদিন এই ছাঁচটি শেখানো হয়েছে: টাইপ 1 শিশুদের হয়, টাইপ 2 বড়দের। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন এই ছাঁচকে স্পষ্টভাবে ভুল বলে; দুটি রোগই সব বয়সে দেখা যায় আর বড় বয়সে শুরু হওয়া রোগপ্রতিরোধ-কেন্দ্রিক ডায়াবেটিস প্রথম দেখায় অন্যটির মতো লাগে। ওজনও নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি নয়। ফারাকটি ঠিক করে বয়স বা শরীর নয়। রক্তে খোঁজা রোগপ্রতিরোধের চিহ্ন আর অগ্ন্যাশয়ের বাকি থাকা তৈরির শক্তিই সেটি ঠিক করে।
ধরনের নাম কৌতূহলের বিষয় নয়, দিক ঠিক করার বিষয়।
- কোনটি বেশি বিপজ্জনক?
- এর একটিমাত্র উত্তর নেই, কারণ ঝুঁকি ধরনের উপর নয়, বছরের পর বছর শর্করা কোথায় দাঁড়িয়েছে তার উপর নির্ভর করে। রোগপ্রতিরোধ-কেন্দ্রিক ধরনে হঠাৎ নেমে যাওয়া আরও কাছ থেকে নজর চায়, অন্যটিতে দেরিতে শনাক্ত হওয়া নিঃশব্দ বছর জমায়।
- ডায়াবেটিস কয় ধরনের?
- আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন চারটি মূল দল গোনে: রোগপ্রতিরোধ-কেন্দ্রিক ধরন, বাধা-কেন্দ্রিক ধরন, গর্ভকালে দেখা দেওয়া ডায়াবেটিস আর একক জিনের ত্রুটি বা অগ্ন্যাশয়ের রোগের মতো অন্য কারণে হওয়া রূপগুলো।
- টাইপ 2 কি টাইপ 1-এ বদলে যায়?
- না, এগুলো একই রোগের ধাপ নয়, দুটি আলাদা প্রক্রিয়া। বাধা-কেন্দ্রিক ডায়াবেটিসে একদিন ইনসুলিনের সুই লাগা মানে ধরন বদলে গেছে তা নয়; অগ্ন্যাশয়ের নিজের তৈরি কমে গেছে, এইটুকুই।
- লুকানো শর্করা কোন ধরনে পড়ে?
- লুকানো শর্করা কথ্য ভাষায় প্রি-ডায়াবেটিসের প্রতিশব্দ: রক্তে শর্করা স্বাভাবিকের উপরে, শনাক্তকরণের সীমার নিচে। নির্দেশিকাগুলো সেই সীমা খালি পেটের মাপ, শর্করা খাইয়ে করা পরীক্ষা আর HbA1c দিয়ে আলাদা আলাদা করে ঠিক করে; প্রি-ডায়াবেটিস এই সীমার ঠিক নিচের ফিতে আর বেশির ভাগ মানুষে বাধা-কেন্দ্রিক প্রক্রিয়ার অগ্রদূত।
টাইপ 1 ডায়াবেটিস কী, কেন হয়?টাইপ 1 ডায়াবেটিস হয় যখন রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন বানানো কোষগুলোকে ভুল করে নিশানা বানায়। বাকি থাকা কোষ চাহিদা মেটায় না, রক্তের গ্লুকোজ উপরে ওঠে। চিনি খাওয়া বা জীবনযাপনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই; প্রক্রিয়াটি মানুষটি কিছু টের পাওয়ার বছরখানেক আগেই শুরু হয়। · 2 মিনিটআরও পড়ুন
অগ্ন্যাশয়ের ভেতরে দ্বীপ নামের কোষগুচ্ছ থাকে আর সেই দ্বীপগুলোর মাঝের বিটা কোষ ইনসুলিন বানায়। টাইপ 1 ডায়াবেটিসে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এই কোষগুলোকে বাইরের ভেবে একটি একটি করে শেষ করে দেয়। অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া বলতে এটিই। বিটা কোষের বড় অংশ চলে গেলে ইনসুলিনের প্রবাহ থামে, রক্তে শর্করা লক্ষ্যসীমার উপরে উঠে যায় আর সেখানেই থাকে।
শুরুতে একাধিক উপাদান একসঙ্গে জড়ো হয়। কলা-মিলনের জিন ঝুঁকি বাড়ায়; এই জিন বয়ে বেড়ানো মানুষের বেশির ভাগেরই রোগটি কখনও হয় না। বংশের ভাগ সংখ্যায় বলা একটি আলাদা লেখা আছে। গবেষণা পরিবেশের উসকানি খুঁজছে; এন্টেরোভাইরাস এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি ঘাঁটা প্রার্থী, তবু নিশ্চিত কোনো উসকানি দেখানো হয়নি। চিনি খাওয়া, ওজন বা জীবনযাপন এই ছবির কারণ নয়।
দেখা যাওয়ার ঘনত্ব দেশে দেশে স্পষ্টভাবে বদলায়; উত্তর ইউরোপে সবচেয়ে বেশি, পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে কম মাপা হয়। ডায়াবেটিস আছে এমন মানুষের ভেতরে টাইপ 1 একটি ছোট ফালি দখল করে।
ধ্বংস একটি সকালে শুরু হয় না। রক্তের অটোঅ্যান্টিবডি, যেমন অ্যান্টি-GAD, কোনো অভিযোগ না থাকতেই বছরখানেক আগে থেকে দেখা দেয়। নির্দেশিকাগুলো প্রক্রিয়াটি তিন ধাপে বর্ণনা করে:
- রোগপ্রতিরোধের আক্রমণ শুরু হয়। অটোঅ্যান্টিবডি রক্তে দেখা যায়, রক্তে শর্করা স্বাভাবিক চলে, মানুষটি কিছুই টের পায় না।
- বিটা কোষ হারানো এগোয়। রক্তে শর্করা লক্ষ্যসীমার বাইরে সরতে শুরু করে, অভিযোগ তখনও নেই।
- বাকি থাকা কোষ কুলোয় না। তেষ্টা, ঘন ঘন শৌচাগার, ওজন কমা আর ক্লান্তি দেখা দেয়; শনাক্তকরণ বেশির ভাগ সময় এই ধাপেই হয়।
উপসর্গ দ্রুত আসে। স্কুলের ব্যাগ হঠাৎ ভারী হয়ে গেছে বলে মনে হয়, রাতের তেষ্টা ঘুম ভেঙে দেয়, নাশতার পরেও ক্লান্তি যায় না। পলিডিপসিয়া আর পলিইউরিয়া, অর্থাৎ অতিরিক্ত তেষ্টা আর ঘন ঘন প্রস্রাব, ছবিটির সবচেয়ে দৃশ্যমান জোড়া। শিশুদের ছবিটি কিটোঅ্যাসিডোসিস দিয়ে খুলতে পারে; এই পাতা সেই জরুরি ছবির চিহ্নগুলোতে ঢুকছে না, সেগুলো “ডায়াবেটিসের প্রথম উপসর্গ কী কী?” শিরোনামে সাজানো।
বয়সের সীমা নেই। বড়দের ধ্বংস ধীরে এগোয় বলে ছবিটি চুপচাপ খোলে আর এই ধীর রূপটি LADA নামে পরিচিত। এই ছবিটি শুরুতে টাইপ 2 ডায়াবেটিসের চেহারা দেয়। ফারাকটি দুটি মাপে পরিষ্কার হয়; অ্যান্টি-GAD অ্যান্টিবডি রোগপ্রতিরোধের আক্রমণের দাগ দেখায়, আর C-পেপটাইড বলে অগ্ন্যাশয়ের নিজের ইনসুলিন তৈরির কতটা বাকি আছে।
| যা প্রায়ই শোনা যায় | যা জানা |
|---|---|
| এটি শৈশবের রোগ | সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয় শৈশবে আর তরুণ বয়সে; বড় বয়সে শুরু হওয়া টাইপ 1 ডায়াবেটিসও আছে |
| বেশি চিনি খেলে হয় | খাওয়া ধ্বংস শুরু করে না; কারণ অটোইমিউন প্রক্রিয়া |
| মোটা হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত | শনাক্তকরণের আগে রোগা হয়ে যাওয়া প্রায়ই দেখা যায়; সেটি কারণ নয় ফল |
| টাইপ 2 ডায়াবেটিসের ভারী রূপ | আলাদা রোগ; কলকব্জা ইনসুলিন প্রতিরোধ নয়, ইনসুলিন না থাকা |
শনাক্তকরণের মুহূর্তে প্রথমে আসে বিস্ময়; অথচ কেউ এক সন্ধ্যায় ভুল কিছু খেয়ে টাইপ 1 ডায়াবেটিসে পড়ে না। শনাক্তকরণের পরে বাকি থাকা বিটা কোষ কিছুকাল আরও কাজ করে; মধুচন্দ্রিমা পর্ব নামের এই ফাঁকে বাইরে থেকে দেওয়া ইনসুলিনের চাহিদা কম চলে। ফাঁকটি বন্ধ হতে হতে চাহিদা আবার ওঠে। অটোইমিউন প্রক্রিয়া পেছনে থামে না বলে ওই ফাঁকটি চিরস্থায়ী নয়।
টাইপ 2 ডায়াবেটিস কী, কীভাবে গড়ে ওঠে?টাইপ 2 ডায়াবেটিসে দুটি জিনিস একসঙ্গে চলে: কোষ ইনসুলিনে আগের মতো সাড়া দেয় না, আর অগ্ন্যাশয়ও কিছুকাল পরে ঘাটতি ঢাকতে পারে না। ডায়াবেটিসের সবচেয়ে চেনা রূপ এটি। গড়ে উঠতে বছর লাগে। রক্তে শর্করা বাড়ার সময় উপসর্গ চুপ থাকে; ছবিটি প্রায়ই অন্য কারণে চাওয়া পরীক্ষায় ধরা পড়ে। · 2 মিনিটআরও পড়ুন
টাইপ 2 ডায়াবেটিস হলো ডায়াবেটিস আছে এমন মানুষের বড় অংশে দেখা ধরন। ইনসুলিন তৈরি একেবারে থামে না, কুলোয় না; সমস্যাটিও দুই জায়গার। একদিকে ইনসুলিন প্রতিরোধ, অন্যদিকে অগ্ন্যাশয়ের এই বাড়তি তৈরি দীর্ঘকাল ধরে রাখতে না পারা। প্রতিরোধ কোষের স্তরে কীভাবে গড়ে ওঠে তা খোলে “ইনসুলিন প্রতিরোধ কাকে বলে?”। রক্তে শর্করা বাড়ার জন্য দুটির একসঙ্গে থাকা লাগে; একা প্রতিরোধ এই ছবি জন্ম দেয় না।
এই ছবিটি একদিনে গড়ে ওঠে না; ধাপগুলো এভাবে চলে:
- প্রতিরোধ বসে যায়, একই কাজের জন্য বেশি ইনসুলিন লাগে।
- অগ্ন্যাশয় বাড়তিটুকু ছাড়ে; ঘাটতি ঢাকা পড়ে বলে পরীক্ষা পরিষ্কার দেখায়।
- বিটা কোষের এই বাড়তি খাটুনি চালানোর শক্তি ধীরে ধীরে কমে।
- তৈরি চাহিদা মেটায় না; শর্করা আগে খাওয়ার পরে, তারপর নাশতার আগেও উপরে ওঠে।
- মান শনাক্তকরণের সীমা ছাড়ালে ছবিটির নাম টাইপ 2 ডায়াবেটিস।
প্রথম ধাপগুলো নিঃশব্দে যায়। বিটা কোষের ক্ষরণ শক্তির কমে আসা শনাক্তকরণের আগের বছরগুলো পর্যন্ত পৌঁছায়; রান্নাঘরে, কাজে আর ঘুমে অবশ্য কিছুই বদলায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, টাইপ 2 ডায়াবেটিসে উপসর্গ মৃদু চলে আর শনাক্তকরণ শুরুর বছরখানেক পরে হতে পারে। একটিমাত্র উঁচু ফল শনাক্তকরণের জন্য যথেষ্ট নয়; আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মাপকাঠিতে ছবিটি দ্বিতীয় একটি পরীক্ষা দিয়ে বা আলাদা একটি দিনের পরীক্ষা দিয়ে নিশ্চিত করা হয়।
ছবিটি দীর্ঘকাল মাঝবয়সের পরের সমস্যা বলে গোনা হতো। আজ তরুণ বড়দের আর স্কুলের বয়সি শিশুদেরও দেখা যাচ্ছে; ওজন বাড়া, নিষ্ক্রিয় দিনের নিয়ম আর বেশি ক্যালরির খাওয়া এই বদলের পেছনের শিরোনামগুলোর মধ্যে। একই নির্দেশিকা যাচাইকে উপসর্গহীন বড়দের ক্ষেত্রেও সামনে আনে; বাড়তি ওজন আর তার পাশে যোগ হওয়া একটি ঝুঁকির শিরোনাম থাকলে পালা আগে আসে। ঝোঁক ঠিক করা শিরোনামগুলো একটির উপরে আরেকটি চেপে কাজ করে। পারিবারিক ইতিহাসের ভাগ এই স্তূপে কতটা? সংখ্যায় তার হিসাব “ডায়াবেটিস কি পরিবার থেকে আসে?” পাতায়।
| উপাদান | কীভাবে ভূমিকা নেয় |
|---|---|
| বয়স | মাঝবয়সের পরে ঘনত্ব স্পষ্টভাবে বাড়ে |
| পারিবারিক ইতিহাস | বংশগত ঝোঁকের শিরোনামগুলোর একটি |
| ওজন আর কোমরের মাপ | বাড়তি ওজন আর চওড়া কোমর ঝুঁকির শিরোনামে গোনা হয় |
| নিষ্ক্রিয় দিনের নিয়ম | চলাফেরার কমতি ঝুঁকির শিরোনামে; কাজ করা পেশি রক্তের শর্করা খরচ করে |
| গর্ভকালে ডায়াবেটিসের ইতিহাস | গর্ভকালে দেখা ছবিটি প্রসবের পরেও নজরে রাখা হয় |
ছকের শেষ সারির বিশদ অবশ্য গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ে লেখাটিতে। টাইপ 2 ডায়াবেটিস এমন কোনো ছবি নয় যেখানে ইনসুলিন তৈরি শেষ হয়ে গেছে; বরং তৈরি বেড়ে যাওয়া চাহিদার সঙ্গে কুলোতে পারছে না এমন ছবি। এই ফারাকটি চিকিৎসার নকশাও গড়ে দেয়: অগ্ন্যাশয় তখনও ক্ষরণ করছে বলে প্রথম দিকে মুখে খাওয়া ওষুধ আর দিনের নিয়ম সামনে আসে। ক্ষরণের শক্তি বছরের পর বছর কমতে থাকলে ছক বদলায়। মানুষে মানুষে গতির ফারাকও তাই বড়।
প্রি-ডায়াবেটিস কী, লুকানো শর্করা কাকে বলে?লুকানো শর্করা হলো চিকিৎসার ভাষায় প্রি-ডায়াবেটিস বলা অবস্থাটির দৈনন্দিন নাম: রক্তে শর্করা স্বাভাবিকের উপরে, শনাক্তকরণের সীমার নিচে। এই ফিতেয় তেষ্টা বা ওজন কমার মতো চেনা চিহ্ন মানুষটিকে সতর্ক করে না। নামটিও ঠিক এখান থেকেই আসে; ছবিটি কেবল পরীক্ষার কাগজে দেখা যায়। · 2 মিনিটআরও পড়ুন
কথ্য ভাষায় শর্করার শুরু বা সীমানার শর্করা বলা ছবিটিও এটিই। দুটি বাগ্ধারাই শুরু হয়ে যাওয়া একটি রোগ নয়, ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া ফিতেটিকে বোঝায়। সামনের উপসর্গটিই বলে দেয় সীমা এখনও পেরোনো হয়নি।
ফিতেটি টের না পাওয়ার একটি বাস্তব কারণ আছে। তেষ্টা আর ঘন ঘন প্রস্রাব দেখা দেয় শর্করা বৃক্কের সীমা ছাড়িয়ে প্রস্রাবে চুইয়ে পড়তে শুরু করলে। প্রি-ডায়াবেটিসের সীমার ভেতরে বাড়াটি এই সীমার নিচে থাকে বলে পানি হারানোও শুরু হয় না, তার পিছু নেওয়া তেষ্টাও না। নাশতা, কাজের দিন আর সন্ধ্যার হাঁটা একই অনুভূতিতে কাটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ধাপটিকে স্বাভাবিক আর ডায়াবেটিসের মাঝের একটি অন্তর্বর্তী অবস্থা বলে বর্ণনা করে।
একটিমাত্র মাপ যথেষ্ট নয়; তিনটি আলাদা জানালা ফিতেটিকে ভিন্ন দিক থেকে ধরে। জানালাগুলোর ফল একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যায়: একটি সীমানায় আসে আর অন্যটি স্বাভাবিক থাকে।
| যে মাপটি দেখা হয় | যা ধরে | ফলটির নাম |
|---|---|---|
| খালি পেটে প্লাজমা গ্লুকোজ | সারা রাত না খাওয়ার পরের সকালের মাত্রা | বিঘ্নিত খালি পেটের গ্লুকোজ |
| OGTT (মিষ্টি তরল পানের পরের মাপ) | বোঝার পরে শর্করা কত দেরিতে নামে | বিঘ্নিত গ্লুকোজ সহনশীলতা |
| HbA1c | গত সপ্তাহগুলোর গড় চলা | সীমানার HbA1c |
একই নাম বহন করে গর্ভকালে করা শর্করা খাওয়ানোর পরীক্ষাটিও। সেই পরীক্ষা গর্ভকালের নিজস্ব একটি আলাদা ছবি, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস খোঁজে। শব্দ এক, বিষয় আলাদা।
ফিতেটির পেছনে ইনসুলিন প্রতিরোধ আর বিটা কোষের পুষিয়ে দেওয়া একসঙ্গে চলে; এই জোড়াটি কীভাবে গড়ে ওঠে আর কেন বছরের পর বছর টের পাওয়া যায় না তা বলা একটি আলাদা লেখা আছে।
আসল প্রশ্নটি এই: এই ছবিটি কি ডায়াবেটিসে গড়ায়? দিক একটি নয়। আলাদা মহাদেশের উনিশটি দলকে জুড়ে করা পুঞ্জীভূত বিশ্লেষণে, দশ বছরের কাছাকাছি নজরদারিতে রক্তে শর্করা স্বাভাবিকে ফেরা মানুষের অনুপাত ডায়াবেটিসে যাওয়া মানুষের অনুপাতের চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি এসেছিল।
একই বিশ্লেষণে খালি পেটের মান সবচেয়ে উঁচু ভাগে ছবিটি উল্টে যায়; সেখানে যাওয়াটিই সামনে আসে। প্রি-ডায়াবেটিস তাই স্থির একটি থামা নয়, দিক খোলা একটি ফিতে।
নথিতে দুই দিকের সঙ্গে একসঙ্গে উল্লেখ করা শিরোনামগুলো এই:
- শুরুর মাত্রা: ফিতের নিচের প্রান্তের কাছাকাছি ফলে স্বাভাবিকে ফেরা বেশিবার দেখা যায়।
- বাড়তি ওজন: কোমরের মাপের অনুপাতের সঙ্গে মিলে, স্বাভাবিকে ফেরার সম্ভাবনা কমানো শিরোনামে গোনা হয়।
- বয়স: বেশি বয়স, টাইপ 2 ডায়াবেটিসের দিকের সঙ্গে একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়।
- কমানো ওজন: জীবনযাপন নিয়ে করা কাজে স্বাভাবিকে ফেরা আগাম বলা শিরোনামগুলোর প্রথমে আসে।
প্রি-ডায়াবেটিস একটিমাত্র ফলের নামফলক নয়, চলার নাম। নির্দেশিকাগুলো তাই ফিতের ভেতরে থাকা মানুষে মাপটি অন্তত বছরে একবার নতুন করে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। দুটি ফলের মধ্যেকার ফারাক, একটি একা সংখ্যার বলা কথার চেয়ে বেশি কিছু বলে।
ইনসুলিন প্রতিরোধ কাকে বলে?ইনসুলিন প্রতিরোধ হলো কোষের দরজা খোলা ইনসুলিনের সংকেত আগের মতো সাড়া না পাওয়ার অবস্থা। অগ্ন্যাশয় যত দিন বাড়তি ক্ষরণ দিয়ে ঘাটতি ঢাকে তত দিন রক্তে শর্করা স্বাভাবিকও দেখায়; ছবিটি তাই বছরের পর বছর টের না পাওয়া থেকে যায়। নাম পাওয়া একটি রোগের চেয়ে বরং ডায়াবেটিস যার উপরে গড়ে ওঠে সেই ভিত। · 2 মিনিটআরও পড়ুন
এখানে প্রতিরোধ শব্দটি একগুঁয়েমি বা দোষ বোঝায় না। কোষ একই সংকেত থেকে কম কাজ বের করছে, এইটুকুই। চাপটি সবচেয়ে বেশি বোঝা যায় পেশি আর যকৃতে: সংকেত মাঝপথে দাঁড়িয়ে থাকে, দরজা কষ্টে খোলে। অগ্ন্যাশয় এই চাপ টের পায় আর ক্ষরণ বাড়ায়। তালা শেষ পর্যন্ত ঘোরে, খরচ হওয়া শক্তি আগের চেয়ে বেশি।
প্রথম নড়াচড়া দেখা যায় খাবারের পরে। খালি পেটে প্লাজমা গ্লুকোজ বছরের পর বছর চুপ থাকলেও নাশতার বা রাতের খাবারের পরে ভরা পেটের শর্করা প্রত্যাশার চেয়ে উঁচুতে ওঠে, নামতে দেরি করে। বিটা কোষ এই বাড়তি খাটুনি সামলাতে না পারলে ছবিটি প্রি-ডায়াবেটিস বা টাইপ 2 ডায়াবেটিসের দিকে সরে। প্রতিরোধ শনাক্তকরণের অনেক আগে শুরু হয় বলে ডায়াবেটিসের খবরটি আচমকা আসে।
| যা দেখা হয় | ইনসুলিন প্রতিরোধ | ডায়াবেটিস |
|---|---|---|
| কী বোঝায় | কোষের ইনসুলিন সংকেতে সাড়া কমে গেছে | রক্তে শর্করা শনাক্তকরণের সীমা ছাড়িয়েছে |
| রক্তে শর্করা | স্বাভাবিক, সীমানায় বা উঁচু | শনাক্তকরণের সীমার উপরে |
| কীভাবে বোঝা যায় | ক্লিনিকের ছবি আর পরোক্ষ নির্দেশক | গ্লুকোজ আর HbA1c-র মাপ |
| নাম পাওয়া শনাক্তকরণ কি | না, একটি ভিত | হ্যাঁ, সংজ্ঞায়িত একটি রোগ |
রক্তের পরীক্ষায় ইনসুলিন উঁচু আসা এই প্রশ্নটি মনে আনে। ওই ফলটি অগ্ন্যাশয়ের বেশি খাটার দাগ, একা কোনো শনাক্তকরণের সংখ্যা নয়। ইনসুলিন মাপা বাণিজ্যিক পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ফারাক বড়: একই নমুনা অন্য পদ্ধতিতে অন্য ফল দেয়। বাণিজ্যিক পদ্ধতি মিলিয়ে দেখা একটি মানকীকরণ প্রতিবেদন এই তারতম্যকে সুসংগত মাপের সামনে বাধা বলে ধরেছিল। বিশ্বজোড়া নির্দেশিকা তাই শনাক্তকরণ ইনসুলিনের মাত্রার উপরে নয়, গ্লুকোজ আর HbA1c-র মাপের উপরে দাঁড় করায়।
প্রতিরোধের সরাসরি মাপ কেবল গবেষণায় বেরোয়: শিরাপথে ইনসুলিন দেওয়ার সময় রক্তে শর্করা স্থির রাখার ক্ল্যাম্প পদ্ধতি। পদ্ধতিটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে, আলাদা একটি দল চায়; বহির্বিভাগের দিনে আঁটে না।
প্রতিরোধ কেবল শর্করা নিয়েই কথা বলে না; একই ভিতে আরও কিছু ফলও প্রায়ই দেখা যায়:
- যকৃতে চর্বি জমা
- রক্তের চর্বির ছকে গোলযোগ
- রক্তচাপ উঁচু থাকা
- পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম
- ঘাড় আর বগলের ভাঁজে কালচে আর মখমলে হয়ে যাওয়া চামড়া
- লুকানো শর্করা আর ইনসুলিন প্রতিরোধ কি একই জিনিস?
- লুকানো শর্করা হলো রক্তে শর্করা স্বাভাবিকের উপরে উঠেছে কিন্তু ডায়াবেটিসের সীমায় পৌঁছায়নি এমন অবস্থার কথ্য নাম। ইনসুলিন প্রতিরোধ আরও চওড়া একটি ভিত; শর্করা পুরোপুরি স্বাভাবিক থাকলেও সেটি পাওয়া যায়।
- ইনসুলিন প্রতিরোধ থাকলে কি ডায়াবেটিস নিশ্চিত?
- নিশ্চিত নয়। প্রতিরোধ ঝুঁকি বড় করে, ফলটি লিখে দেয় না। অগ্ন্যাশয় চাহিদা মিটিয়ে যেতে থাকলে রক্তে শর্করা শনাক্তকরণের সীমার নিচে থাকে।
পেশির ভাগ এখানে ঠিক করে দেয়। ইনসুলিনের চালানো গ্লুকোজ নেওয়ার বড় অংশ ঘটে কঙ্কালের পেশিতে। হাঁটা, কাজের দিনের ভেতরের চলাফেরা আর ওজনের বদল তাই ইনসুলিনের সাড়া নিয়ে করা গবেষণার কেন্দ্রে দাঁড়ায়। প্রতিরোধ সারা জীবন একই মাত্রায় থাকে না। বিটা কোষের ধারণক্ষমতা যথেষ্ট থাকলে রক্তে শর্করা শনাক্তকরণের সীমা কখনও ছাড়ায় না।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কী?গর্ভকালীন ডায়াবেটিস মানে রক্তে শর্করা প্রথমবার গর্ভাবস্থার সময় উঁচুতে ওঠা, আর বেশির ভাগ নারীতে তা প্রসবের পরে নেমে আসে। নেমে আসা মানে নথিটি বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়: পরের বছরগুলোতে টাইপ 2 ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা উঁচু থাকে। প্রসবের পরে করা মাপও তাই নজরদারির একটি অংশ। · 2 মিনিটআরও পড়ুন
গর্ভাবস্থায় অমরা একগুচ্ছ হরমোন ছাড়ে আর এই হরমোনগুলো ইনসুলিনের কোষকে দেওয়া সংকেত দুর্বল করে। শরীর এর জবাবে আরও বেশি ইনসুলিন বানিয়ে সামাল দেয়। অগ্ন্যাশয় যত দিন এই বাড়তি বোঝা টানতে পারে তত দিন রক্তে শর্করা স্বাভাবিক চলা ধরে রাখে, যেখানে পারে না সেখানে উপরে ওঠে। নির্দেশিকায় এই ছবিটির নাম জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস। উৎস হলো গর্ভাবস্থার নিজের বানানো ইনসুলিন প্রতিরোধ; প্রতিরোধ কোষে কোন ধাপে গড়ে ওঠে তা আলাদা একটি লেখার বিষয়।
উপসর্গ একা পথ দেখায় না। খুব তেষ্টা, ক্লান্তি আর ঘন ঘন প্রস্রাব গর্ভাবস্থার নিজেরও থাকে, তাই সেগুলো আলাদা করার মতো ধরা হয় না। শনাক্তকরণ তাই কোনো অভিযোগ থেকে নয়, শর্করা খাওয়ানোর পরীক্ষা (OGTT) থেকে বেরোয়। যাচাইয়ের সময় নির্দেশিকায় 24-28 সপ্তাহ। খাওয়ানো এক ধাপের নকশায় একটি পরীক্ষা দিয়ে, দুই ধাপের নকশায় আগে যাচাই তারপর নিশ্চিতকরণ দিয়ে করা হয়। যাচাই সব গর্ভবতীর জন্যই পরামর্শ করা হয়, নিচের শিরোনামগুলো অবশ্য সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে বাড়ায়:
- গর্ভাবস্থার আগে বাড়তি ওজন বয়ে বেড়ানো
- চলাফেরা কম এমন একটি দৈনন্দিন নিয়ম
- পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস
- আগের একটি গর্ভাবস্থায় একই ছবি দেখা যাওয়া
- আগে জন্ম নেওয়া একটি বড় আকারের শিশু
- পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের মতো ইনসুলিন প্রতিরোধ নিয়ে চলা অবস্থা
রক্তের বাড়তি গ্লুকোজ অমরা পেরিয়ে যায় আর শিশুর নিজের ইনসুলিন তৈরি বাড়ায়। শিশুর বড় আকারে জন্মানো তাই বেশিবার দেখা যায়। নজরদারির প্রথম ধাপ খাওয়ার নিয়ম আর দিনের চলাফেরা। থালার ভাগ, নাশতার রুটি, সন্ধ্যার হাঁটা সবই এই ধাপের ভেতরে। নারীদের বড় অংশ গর্ভাবস্থা এই ধাপ দিয়েই শেষ করেন, একটি অংশে পরিকল্পনায় ইনসুলিনও ঢোকে।
প্রসবের সঙ্গে অমরাও বেরিয়ে যায়, তার বানানো হরমোনের বোঝা সরে যায় আর ইনসুলিনের চাহিদা অল্প সময়ে নেমে আসে। তবে গর্ভাবস্থায় প্রথমবার দেখা প্রতিটি শর্করার উচ্চতা এক জিনিস নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ছবিটিকে দুটি শিরোনামে ভাগ করে: গর্ভাবস্থার সঙ্গে বাঁধা, আর গর্ভাবস্থার আগেও ছিল কিন্তু প্রথমবার ওই পরীক্ষায় চোখে পড়া। দ্বিতীয়টিতে শর্করা প্রসবের পরেও উঁচু থাকে, কারণ তার উৎস গর্ভাবস্থা ছিল না।
| সময় | স্বাভাবিক নজরদারি |
|---|---|
| প্রসবের পরের প্রথম দিনগুলো | ইনসুলিনের চাহিদা দ্রুত নামে, শর্করা স্বাভাবিক চলায় ফেরে |
| প্রসবের 4-12 সপ্তাহ পরে | খাওয়ানোর পরীক্ষা আবার করা হয়, এবার গর্ভাবস্থার বাইরের মাপকাঠিতে বিচার করা হয় |
| পরের বছরগুলো | 1-3 বছরের ব্যবধানে আবার করা যাচাই; নজরদারি সারা জীবন চলে |
প্রসবের পরের মাপে পালা খাওয়ানোর পরীক্ষার। গর্ভাবস্থায় লোহিত কণিকার চক্র দ্রুত হয়, প্রসবের রক্তক্ষরণও তার সঙ্গে যোগ হয়; দুটি মিলে HbA1c-র ফল নিচে টানে। নির্দেশিকা তাই প্রথম মাসগুলোতে HbA1c-র বদলে খাওয়ানোর পরীক্ষাকে আগে রাখে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে এমন নারীদের পরের বছরগুলোতে টাইপ 2 ডায়াবেটিস দেখা যাওয়ার ঘনত্ব, এই ইতিহাস না থাকাদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। একই নির্দেশিকা লেখে, এই দলে দিনের নিয়ম বদলানো আর দরকারে ওষুধের সহায়তা টাইপ 2 ডায়াবেটিসে যাওয়া পিছিয়ে দেয়।
এই লেখা কেবল জানানোর জন্য; এটি রোগ শনাক্তকরণও নয়, চিকিৎসা বা মাত্রার নির্দেশও নয়। আপনার চিকিৎসার সিদ্ধান্ত সব সময় সেটিই যা আপনি আপনার ডাক্তারের সঙ্গে মিলে নেন।